মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি জনপ্রতি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। কর্মীদের ৮ হাজার টাকার বেশি না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, কোনো মেডিকেল সেন্টার নির্দিষ্ট কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির অধীনে কাজ করবে না। মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য নির্বাচিত কর্মীরা অনুমোদিত যেকোনো মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে পারবেন।
কোনো এজেন্সি মেডিকেল স্লিপ দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মী অন্য এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলে আগের এজেন্সিকে বিলম্ব না করে মেডিকেল রিপোর্ট পাঠিয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্লিপ প্রদানকারী এজেন্সির কোনো অজুহাত বা আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।
কোনো মেডিকেল সেন্টার নির্ধারিত ফির বেশি টাকা দাবি করলে, হয়রানি বা কোনো ধরনের তালবাহানা করলে তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রণালয়কে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এজন্য ইমেইল ঠিকানা ংবপৎবঃধৎু@ঢ়ৎড়নধংযর.মড়া.নফ-এ অভিযোগ জানানো যাবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মাইগ্রামস স্লিপের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না।
এতে আরও বলা হয়, মন্ত্রণালয় নিয়মিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। কোনো অনিয়ম বা গরমিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার জন্য মালয়েশিয়াগামী কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান, যে যা করেছে তার সঠিকভাবে মূল্যায়িত হওয়া। কাউকে যেন অবমূল্যায়িত করা না হয়। স্বচ্ছ ফল আমাদের দিতে হবে।’
এবারের ফলাফলে শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা গেছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি একটি বাস্তব চিত্র। এসব ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা যায়, সে জন্য মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড কাজ করবে। অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও এ বিষয়ে সহযোগিতা করতে হবে।
এবার পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত বছর এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ হয়েছে। পাসের হার কমে যাওয়াকে তিনি সন্তোষজনক মনে করেন না। শিক্ষার্থীদের শেখার পদ্ধতি, অভিভাবকদের ভূমিকা ও শিক্ষার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় মিলিয়ে ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করতে হবে।
কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইংরেজিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং আইসিটিতে ১৩ হাজার ৮৪৯ জন অকৃতকার্য হয়েছে। ইংরেজি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে মন্ত্রণালয় বিবেচনা করবে। প্রয়োজনে আশপাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করা যায় কি না, তা ভাবা হচ্ছে। তবে এতে শিক্ষকদের চাকরি যাবে না বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়াতে হবে, বাড়িতে পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং মোবাইল আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে। শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের জন্য সরকার শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে এবং বাজেট বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।
আগের বছরগুলোতে পাসের হার বেশি থাকার বিষয়ে তদন্ত করা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ফলাফলে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা আরও পরিষ্কার হবে। পরীক্ষক ও শিক্ষকদের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও দেখা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএর শর্ত শিথিল করা হবে কি না, জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয় কতটুকু মান বজায় রেখে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে, সেটি তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে ভর্তি হওয়ার সুযোগ সবাই পাবে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে এবার প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে। পাস করেছে প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী।
এনসিটিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং প্রশ্নপত্র ও খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এসব বিষয় খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের অনেক দুর্বলতা রয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণে ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তনের ঘটনা তার প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, কোথাও কোথাও এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পাল্টে দেওয়া হয়েছে এবং সংঘবদ্ধভাবে ফল পরিবর্তনের অপচেষ্টা হয়েছে। এ ধরনের কিছু ঘটনা ধরা পড়েছে, বাকিগুলোও খতিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা বোর্ড, পরীক্ষক এবং প্রশ্নপত্রসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা রয়েছে। সেগুলো ধীরে ধীরে চিহ্নিত করা হচ্ছে।