Bangla24.Net

শনিবার, ২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সুরমার পানি সুনামগঞ্জ শহরে

ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সুনামগঞ্জ শহরে ঢুকে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। এছাড়ড়াও জেলার দোয়ারাবাজার, ছাতক, সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ^ম্ভরপুর ও শন্তিগঞ্জ উপজেলা নি¤œাঞ্চল প্লবিত হয়েছে। এতে অন্তত ৫ লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের বড়পাড়া, তেঘরিয়া, উত্তর আরপিননগর, মধ্যবাজার, নতুনপাড়া, বাধনপাড়া, মরাটিলা শান্তিবাগ, কাজীর পয়েন্ট, ষোলঘর ও নবীনগরসহ বেশকিছু এলাকা।

জেলা শহরের পাশাপাশি বন্যাকবলিত হয়েছে জেলার সদর উপজেলা, বিশ্বম্ভপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, তাহিরপুর, শান্তিগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের মানুষ।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানাযায়, মঙ্গলবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে ৮ দশমিক ৪২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী মান্নান জানান, সদর উপজেলা ৬২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছিল। বিকেলে উপজেলা সবক’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুস্তফা মুন্না জানান, ছাতক পৌরসভা, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন, নয়ারাই ইউনিয়ন ও গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের লক্ষাধিক বন্যাক্রান্ত হয়েছেন। এ উপজেলায় ১১৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যার্তরা আশ্রয় নিয়েছে বলেও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসন বন্যার্তদের মধ্যে চাল,ডাল, চিড়া, মুড়ি, বিস্কুট, মোমবাতিসহ শুকনা খাবার বিতরণ করেছেন।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা পারভীন জানান, তাহিরপুরে ৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সবক’টি গ্রামের লোকজনই পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নেহের নিগার তনু জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলার সবক’টি সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বলতে গেলে উপজেলার সবক’টি গ্রামের মানুষই এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজন উঠেছে।

শন্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা জানান, শান্তিগঞ্জে ৩৮টি অশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪ শত পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলায় ৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

শেয়ার