Bangla24.Net

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ৯ ফাল্গুন ১৪৩০

ঘন কুয়াশায় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত

প্রতি বছর শীতকালে ঘন কুয়াশার কারণে শাহজালালসহ দেশের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়। এবার শীতে ডিসেম্বর মাসে কয়েক দিন এবং জানুয়ারিতে প্রায় প্রতিদিনিই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শুধু জানুয়ারিতেই শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৪০টির বেশি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল এক প্রকার বন্ধ থাকছে। এ ছাড়া সকালের ফ্লাইট শিডিউল দিনের অন্য সময় নিয়ে আসায় চাপ পড়ছে বিমানবন্দরে। ঘন কুয়াশা বা বৈরী আবহাওয়ায় ফ্লাইট অবতরণের জন্য যে ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম নামের যে উন্নত প্রযুক্তি প্রয়োজন তা না থাকায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শাহজালালে স্থাপিত আইএলএস ক্যাটাগরি-১ প্রযুক্তির মাধ্যমে রানওয়ের ভিজিবিলিটি ৮০০ মিটার কিংবা তার বেশি। এখন উন্নত প্রযুক্তি আইএলএস ক্যাটাগরি-২ বসানোর কাজ চলছে।

এর মাধ্যমে গ্রাউন্ডের ভিজিবিলিটি ৫০০ মিটারের কম থাকলেও পাইলট ফ্লাইট অবতরণ করতে পারবেন। পাঁচ কোটি ডলার দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে এ প্রযুক্তি কেনা হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তি স্থাপন করার জন্য গত ১০ জানুয়ারি থেকে পুরোনো প্রযুক্তি বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

এ ছাড়া আইএলএস-৩ প্রযুক্তির মাধ্যমে রানওয়ের ভিজিবিলিটি ১০০ মিটারের মধ্যে থাকলে বিমানবন্দরে অবতরণে পাইলটের কোনো সমস্যা হয় না। পাকিস্তানের ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। আর ভারতের কলকাতার নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যবহৃত হচ্ছে আইএলএস-৩(বি)। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে ৫০ মিটার দৃষ্টিসীমার মধ্যেও উড়োজাহাজ অবতরণ করা যায়। বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেখানে আইএলএস ক্যাটাগরি-৩ ও আইএলএস ক্যাটাগরি-৩(বি) ব্যবহার করছে

সেখানে আইএলএস ক্যাটাগরি-২ প্রযুক্তি স্থাপনকে ভিত্তিহীন ও অর্থের অপচয় বলে মন্তব্য করেছেন এ খাত-সংশ্লিষ্টরা। বিমানসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা বলছেন, শীতকালে এমনিতে ঘন কুয়াশার কারণে ফ্লাইট অবতরণে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ সময়ে সিস্টেম আপগ্রেড করা যৌক্তিক কাজ নয়। আইএলএস প্রযুক্তি বন্ধ করে দেওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরের অন্যান্য বিমানবন্দরে অনেক ফ্লাইট ডাইভার্ট করতে হচ্ছে। এতে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি জ্বালানি খরচ, অবতরণ ও পার্কিং ফির কারণে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বলছে, আইএলএস ক্যাটাগরি-২ প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে। ফেব্রুয়ারি নাগাদ কাজ শেষ হবে। বিষয়টি অন্তত ১০ দিন আগে এয়ারলাইন্সগুলোকে জানানো হয়েছিল। তারা সে অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এ কাজের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। এ সময়সূচি অনেক আগেই নির্ধারণ করা। আইএলএস সিস্টেম স্থাপন করার পর পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এরপর আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থাকে সেটি অডিট করে সার্টিফিকেট দিলে পুরোপুরি চালু হবে। একই ধরনের প্রযুক্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম, সিলেট ও কক্সবাজার বিমানবন্দরেও।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, শাহজালালে ৪, ৫, ৬ ও ১১ যথাক্রমে ১৩টি, ৪টি, ১টি ও ১টি এবং ১৪ ও ১৫ জানুয়ারি ১টি। এ ছাড়া ১৭ জানুয়ারি ১১টি এবং ১৮ জানুয়ারি ৩টি ফ্লাইট বিভিন্ন বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়েছে। উড়োজাহাজ-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন প্রায়ই কুয়াশার কারণে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হচ্ছে। অনেক সময় সকাল ৯টা পর্যন্তও বন্ধ থাকছে। পরে এসব ফ্লাইটকে ফিরিয়ে আনা হয়। এতে দুপুরের দিকে অনেক চাপ বেড়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, বছরের পর বছর ধরে এ সমস্যা চলছে। এটা নিয়ে বেবিচকের গাফিলতি আছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন আইএলএস-৩ ও আইএলএস-৩(বি) ব্যবহার করছে সেখানে বেবিচক এখন আইএলএস-২ স্থাপন করছে। উচিত ছিল একবারে আইএলএস-৩ করা। আমাদের দ্রুত আইএলএস-৩ প্রযুক্তির দিকেই যেতে হবে।

এ বিষয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম বলেন, ফ্লাইট ডাইভার্ট করায় উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর আর্থিক ক্ষতি হয়। পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। সকালের ফ্লাইটগুলো কুয়াশার কারণে দেরি হলে তার প্রভাব দিনের অন্য ফ্লাইটেও পড়ে। শিডিউল বিপর্যয়ের মতো ঘটনা ঘটে। আরও আগেই উন্নত প্রযুক্তি স্থাপন করা দরকার ছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেবিচকের সহকারী পরিচালক (যোগাযোগ) আবদুল্লাহ কাওসার বলেন, শাহজালালে এখন আইএলএস ক্যাটাগরি-২ প্রযুক্তি প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। এ জন্য পুরোনো আইলএস প্রযুক্তি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষে কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, ৫ কোটি ডলার দিয়ে কেনা এ যন্ত্রপাতি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা হয়েছে। এ প্রযুক্তির সঙ্গে বিদ্যুৎ রানওয়েসহ অনেক কিছুই জড়িত।

সৌজন্যে : সময়ের আলো

 

শেয়ার