Bangla24.Net

বৃহস্পতিবার, ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সেপ্টেম্বরে ঢাকামুখী হতে তৃণমূৃলে বার্তা বিএনপির

আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন বড় শোডাউন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। তৃণমূলেও ব্যাপক জমায়েতের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর পর থেকে সব কর্মসূচি ঢাকাকেন্দ্রিক হবে জানিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার বার্তা পাঠানো হয়েছে তৃণমূলে।

তৃণমূল নেতারা বলছেন, সেপ্টেম্বরে আন্দোলনের ফাইনাল খেলা হবে ঢাকায়। তাই তৃণমূল থেকে সবাই ঢাকায় আসতে প্রস্তুত। কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, সব ধরনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বার্তা দেওয়া হচ্ছে তৃণমূলে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেপ্টেম্বরের আন্দোলন সামনে রেখে সাংগঠনিক নেতারা প্রতিদিন বৈঠক করছেন মহানগর, জেলা ও উপজেলার নেতাদের সঙ্গে। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতারা দলের হাইকমান্ডের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। যেকোনো সময় ডাক আসবে, প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিচ্ছেন। জবাবে তৃণমূল নেতারা ঢাকায় আন্দোলনের ফাইনাল আয়োজনের জোর তাগিদ দিচ্ছেন। সে সঙ্গে ঢাকাকে আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। তাদের ভাষ্য- ঢাকা ব্যর্থ হলে তৃণমূলে শতভাগ সফল হয়েও কোনও লাভ নেই।

টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, আপাতত বার্তা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বৃহৎ জমায়েতের। সেপ্টেম্বরের প্রথম দুইদিন থাকবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি। এরপর চূড়ান্ত আন্দোলন শুরু হবে। ফাইনাল খেলা হবে ঢাকায়। আমরা কেন্দ্রকে বলেছি সারা টাঙ্গাইল দখল কিংবা অচল করেও লাভ নেই। যা করার এখন ঢাকায় করতে হবে। জেলায় সমাবেশ-মিছিল-মিটিং অনেক হয়েছে। নেতাকর্মীরা এবার ঢাকায় যেতে শতভাগ প্রস্তুত। ফাইনাল খেলায় সবাই ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করবে।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, সাংগঠনিক নেতারা আমাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সামনের চূড়ান্ত আন্দোলনের বার্তা দিচ্ছেন। ঢাকামুখি লংমার্চ, রোডমার্চ ঘেরাও এসব কর্মসূচি আসতে পারে। এ জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। যা করার আগামি মাসেই করতে হবে। সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে ভিন্নভাবে পর্যুদস্তু করার চেষ্টা করছে। তৃণমূলের নেতাদের বহু পুরনো মামলা এখন সচল করা হচ্ছে। দ্রুত রায় দেয়া হচ্ছে। এসব হামলা-মামলার পরও আমরা শতভাগ প্রস্তুত।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সময়ের আলোকে বলেন, আশা করছি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্মরণকালের সেরা জমায়েত করতে পারব আমরা। তৃণমূলে প্রতিদিনই কাজ করা হচ্ছে। নেতাদের সঙ্গে বৈঠক আলোচনা চলছে। তাদের সম্ভাব্য সব ধরণের কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এক দফার সব কর্মসূচি হবে ঢাকাকেন্দ্রিক। সরকারকে আর কোনও সুযোগ দেয়া যাবে না। নতুন নতুন কর্মসূচি আসবে- আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে বর্তমান সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে শুক্রবার ঢাকায় কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপি।যুগপৎভাবে সরকারবিরোধী বিভিন্ন দল, জোট ও বিএনপির সমমনারাও এ কর্মসূচি পালন করবে।

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে পৃথক এই কর্মসূচি শুরু হবে বিকাল ৩টায়। শরিকরাও কাছাকাছি সময়ে এ কর্মসূচি পালন করবে। বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে শ্যামলী লিংক রোড থেকে মোহাম্মপুর বাস বাসস্ট্যান্ড এবং মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে দয়াগঞ্জ পর্যন্ত কালো পতাকা গণমিছিল হবে।

শরিকদের মধ্যে গণতন্ত্র মঞ্চ শাহবাগ, ১২ দলীয় জোট বিজয়নগর, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট পুরানা পল্টন, গণফোরাম ও পিপলস পার্টি আরামবাম, এলডিপি পূর্ব পান্থপথ, লেবার পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ (রেজা কিবরিয়া), সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদ জাতীয় প্রেস ক্লাব, গণঅধিকার পরিষদ (নূর) ফকিরাপুল কালভার্ট রোড, এনডিএম মালিবাগ, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য সেগুনবাগিচা, এবি পার্টি বিজয়নগর শ্রমভবনের সামনে, জনতার অধিকার পার্টি বিজয়নগর পানি ট্যাংকের সামনে থেকে মিছিল বের করবে। এ দলগুলোর কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচিও দুপুরের পরপরই শুরু হবে বলে জানা গেছে।

বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল হক জানান, কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে প্রস্তুতি সভা ও যৌথসভা করা করেছে। সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঠে আনতে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা রয়েছে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে হাইকমান্ড যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন সেভাবেই তারা কাজ করছেন। কর্মসূচির আগে ও পরে হাইকামন্ডের সঙ্গে তাদের সরাসরি আলোচনা হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার রাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দুদিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এরমধ্যে শনিবার দেশের সব মহানগরে গণমিছিল করবে বিএনপি।

গত ১২ জুলাই নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ থেকে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের ঘোষণা দেয় বিএনপি। এরপর থেকে এক দফা দাবি আদায়ে রাজপথে ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে দলটি। এসব কর্মসূচিতে সরকারবিরোধী জোটগুলোও সংহতি জানায়।

এক দফা ঘোষণার পর গত ২৮ জুলাই ঢাকায় মহাসমাবেশ এবং ২৯ জুলাই ঢাকার সব প্রবেশমুখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, মাঠ চাঙ্গা রাখতে প্রতি সপ্তাহে ছোট ছোট কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের জোরালো কর্মসূচি আসবে। ঘেরাওয়ের বদলে হয়তো নামের ভিন্নতা আসতে পারে। আদালত কিংবা সচিবালয় অভিমুখে অভিযাত্রা- এভাবে পরবর্তী কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সৌজন্যে : সময়ের আলো

শেয়ার