Bangla24.Net

শনিবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পাথর আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি

সিলেটের ৭ শুল্ক স্টেশনে স্থবিরতা

ফাইল ছবি

আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রতিবাদে সিলেট বিভাগের একটি স্থলবন্দর ও ৭টি শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে চুনাপাথর ও বোল্ডার পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফলে এর সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। আমদানি শুল্ক কমানো না হওয়া পর্যন্ত পাথর আমদানি থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমদানিকারকরা। ফলে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর এবং বাকি ৭টি শুল্ক স্টেশনে।

সিলেট বিভাগে সব মিলিয়ে ১৩টি শুল্ক স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে গোয়াইনঘাটের তামাবিল, কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, সুনামগঞ্জের বাগলি, বড়ছড়া ও চারাগাঁও এবং ছাতকের ইছামতী ও চেলা স্টেশন দিয়ে মূলত ভারত থেকে চুনাপাথর ও বোল্ডার আমদানি হয়। চুনাপাথরের ইম্পোর্ট অ্যাসেসম্যান্ট রেট সাড়ে ১১ ডলার এবং বোল্ডারের রেট ১১ ডলার হিসেবে আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি কাস্টমস থেকে ইম্পোর্ট অ্যাসেসম্যান্ট রেট বাড়িয়ে চুনাপাথরে সাড়ে ১৩ ডলার এবং বোল্ডারে ১৩ ডলার করার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে করে প্রতিটন চুনাপাথর বা বোল্ডারে অতিরিক্ত আরও ১২ থেকে ১৩ম টাকা বেড়ে যাওয়ায় বেঁকে বসেন। তারা গত ১৬ আগস্ট থেকে চুনাপাথর ও বোল্ডার আমদানি বন্ধ করে দেন। ফলে স্থলবন্দর কিংবা শুল্ক স্টেশনগুলোতে কর্মরত লক্ষাধিক লোড-আনলোড শ্রমিক, পাথরবাহী ট্রাকচালক ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েন। সুনসান নীবরতা নেমে এসেছে তামাবিল স্থলবন্দরসহ শুল্ক স্টেশনগুলোতে।

এদিকে পাথর আমদানি বন্ধ হয়ে পড়ায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। তারা যেকোনো মূল্যে তাদের স্থলবন্দরে পাথর আমদানি চালুর দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। তারা বলছেন, কর্মহীন হওয়ায় তাদের পরিবারের স্বজনদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাদের। কাস্টমসের এ সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী দাবি করে তামাবিল চুনাপাথর, পাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, অবস্থা এমন চলতে থাকলে ব্যবসায়ীরা লোকসান দিয়ে আমদানি শুরু করবেন না। এতে করে ব্যবসায়ীরা যেমন আর্থিক ক্ষতি ও ব্যাংক দেনায় ডুববেন, তেমনি শ্রমিকরাও বেকার হয়ে অনাহারে দিন কাটাবেন।

তামাবিল চুনাপাথর, পাথর ও কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় সরকার সিলেট থেকে প্রতিদিনই অন্তত ৫ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা সরকারের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি। কারণ এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তবে তামাবিল স্থলবন্দরের কাস্টমসের দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। তারা জানান, কাস্টমসের পক্ষ থেকে আমদানি বন্ধ করা হয়নি। বিভিন্ন শুল্ক স্টেশনে ভারতীয় মালামাল গ্রহণ করার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন। আগের ৮৪ টাকার পরিবর্তে এখন ডলারের মূল্য ১০৯ টাকা। ডলারের মূল্যস্ফীতির কারণেই শুল্ক বেড়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনায় মূলত অ্যাসেসম্যান্ট ভ্যালু বাড়ানো হয়েছে বলে তাদের দাবি।

সৌজন্যে : সময়ের আলো

শেয়ার