Bangla24.Net

বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

অবাধে চলছে শামুক নিধন!

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় বর্ষার পানি কমে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী বিল ও ফসলের জমি থেকে জাল দিয়ে স্থানীয় জেলেরাসহ বিভিন্ন লোকজন মাছ ধরার পাশাপাশি অপরিকল্পিতভাবে শামুক নিধন করছে। এর ফলে বিলের জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। ্একই সঙ্গে ফসলি জমির উর্বরতাও হ্রাসের শঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

তবে শামুক ধরা বন্ধে আইন থাকলেও তা প্রয়োগ হচ্ছে না। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২-এর ধারা ৬ ও ৩৪-এ বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া বন্য প্রাণী শিকার, ওঠানো, উপড়ানো ও ধ্বংস বা সংগ্রহ করা যাবে না। এ ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় বা আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না। এ নিয়ম না মানলে এ অপরাধের জন্য এক বছরের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে।

জানা গেছে, লাখাই উপজেলায় ভয়ে যাওয়া ধলেশ্বরী, মেঘনা , সুতাং, ভলবদ্র নদী সহ লাখাই উপজেলার কুচিয়া বিল, চিকনপুর হাওড়, স্বজনগ্রাম হাওড়, রুহিতনসী হাওড়, কৃষ্ণপুর হাওড়, বুল্লা হাওড়, শিবপুর হাওড়, নোয়াগাও হাওড়ের তীরবর্তী ফসলের জমি থেকে ২০দিন যাবত অবাধে শামুক নিধন চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেলেসহ খেটে খাওয়া লোকজন বাড়তি উপার্জনের আশায় ছো-বড় নৌকা যোগে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মই জাল, হেসি জাল দিয়ে এই শামুক সংগ্রহ করে থাকে, পরে সংগ্রহ করা শামুক বস্তাবর্তী করে নৌকা যোগেই বিক্রির জন্য উপজেলার চিকনপুর ব্রিজ এলাকায় নিয়ে আসেন। সেখানের শামুক ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদের কাছে প্রতিবস্তা ১০০/১২০/১৩০ টাকা দরভেদে বিক্রি করেন।

শামুকভর্তি শতশত বস্তা বড় ট্রাক যোগে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজ করে প্রতিদিন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে চট্রগ্রাম, কুমিল্লা, বিবাড়িয়া, কুড়িগ্রামের রৌমারী, নরসিংদী জেলার মতো এলাকার বিভিন্ন হাঁসের খামার, মাছের খামার বা পুকুরে বিক্রির জন্য। এ যেন শামুকের হাট।

বামৈ নোয়াঁও গ্রামের জেলে পঙ্কজ, অতিন্দ্র দাশ, সুকুমার দাশ নামে ৩ শামুক সংগ্রহকারী বলেন, ‘বর্ষায় বিলগুলোতে মানুষের কাজকর্ম তেমনটা থাকে না। তাই আমরা নৌকায় করে মই জাল, হেসি জাল ও হাত জাল দিয়ে শামুক সংগ্রহ করি। সংগ্রহ করা শামুক নুর মোহাম্মদ ব্যাপারীদের কাছে প্রতি বস্তা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করে তাকি, তারা আরও জানান দৈনিক জনপ্রতি ৪০/৫০ বস্তা করে শামুক সংগ্রহ করতে পারেন, এতে দৈনিক ৭/৮শত টাকার মতো ইনকাম হয়।

স্বজন গ্রামের স্থানীয় নুর মোহাম্মদ নামে অভিযুক্ত শামুক ব্যবসায়ী জানান, আমি দীর্ঘ ১৫/১৬দিন ধরে এ শামুকের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি, চিকনপুর ব্রিজের ঘুরা থেকে দৈনিক সাড়ে ৪শ বস্তা বাজারজাত করতে পারি, মঙ্গলবার (১৫আগষ্ট) আমি ৪শত বস্তা অর্থাৎ ২ ট্রাক শামুক বাজারজাতকরণ করেছি, আমার শামুক গুলি চট্রগ্রাম,কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় হাঁস ও মাছের খাদ্য হিসেবে খামারিদের কাছর বিক্রি করে তাকি। এতে প্রতি ট্রাক প্রতি ৫ হাজার টাকা লাভ হয়, আজ আমার ২ট্রাকে ১০ হাজার টাকা লাভ হবে ।

শামুকের বস্তা ট্রাক গাড়িতে ওঠানামার কাজে নিয়োজিত ৮/১০ শ্রমিকের সাথে কথা হলে তারা ভিডিও করতে নিষেধ করেন, বলেন, ভিডিও করলে আমাদের সমস্যা হবে, মারবে প্রশাসন, কোথায় থেকে শামুক আসছে? প্রশ্ন করলে তার জবাবে তারা বলেন, সাঘর থেকে আসছে ও পার্শ্ববর্তী মেঘনা নদীসহ অষ্টগ্রাম উপজেলার মিঠামইন এলাকা থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে, আপনি মালিকের সাথে কথা বলেন এব্যাপারে আমরা কিছু জানি না।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ট্রাক চালক জানান, বস্তা ভর্তি শামুক গুলো চট্রগ্রাম যাবে। এক হাঁসের খামারির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এই মৌসুমে প্রতিবছর বিল এলাকা থেকে হাঁসের খাবারের জন্য শামুক কিনে আনা হয়। হাঁসকে শামুক খেতে দিলে ডিম বেশি দেয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ জেলা শাখার নির্বাহী সদস্য বাহার উদ্দিন বলেন, আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলব ও খোঁজ নিয়ে দেখব।

হবিগঞ্জ জেলা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরীর ব্যবহৃত মুঠোফোন কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।

এ ব্যাপারে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা সুলতানা জানান, লাখাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে বলে দিয়েছি এ ব্যাপারে রিপোর্ট দেয়ার জন্য।

সূত্র : সময়ের আলো

শেয়ার