Bangla24.Net

বৃহস্পতিবার, ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভোলাগঞ্জ-শাহ আরেফিন সড়ক

রাস্তায় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি, জনদুর্ভোগ চরমে

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ-শাহ আরেফিন-ছনবাড়ি সড়ক গর্তে ভরা। এর ফলে এলাকাবাসীর দুর্দশা কাটছে না। টাকা বরাদ্দ ও ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেয়ার দেড় মাস পার হলেও নানা অজুহাতে শুরু হচ্ছে না কাজ।

শাহ আরেফিন পাথর কোয়ারি থেকে পাথর পরিবহনের কারণে সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তে ভরা সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই কর্দমাক্ত হয়ে যায়। চলাচলের অযোগ্য ভাঙা এই সড়কে ভোগান্তির শেষ নেই মানুষের। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।

স্থানীয় অনেকে জানান, ৫ দশমিক ৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে এ সড়কটি ছনবাড়ি থেকে শাহ আরেফিন হয়ে সিলেট-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে। ২০০৩-০৪ অর্থবছরে সড়কটি নির্মাণ ও পাকাকরণ হয়। এই সড়ককে কেন্দ্র করে শাহ আরেফিন টিলা পাথর কোয়ারি থেকে শুরু হয় পাথর উত্তোলন ও পরিবহন। প্রতিদিন শত শত ট্রাক-ট্রাক্টর পাথর পরিবহন করত।

উপজেলার অর্থনৈতিক ব্যস্ততম সড়কে রূপ নেয় এটি। তখন হাজারো মানুষের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর ছিল এলাকা। তবে রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বাড়তে থাকে। বারবার এলাকাবাসীর দাবির পরও গত ২০ বছরে এ সড়কের উন্নয়নে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পুরো রাস্তাটাই ভাঙা ও খানাখন্দে ভরা। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে থাকে। তখন অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয় আজিজুল হক বলেন, ছনবাড়ি, নারাইনপুর, চিকাডহর ও জালিয়ারপাড় এলাকার চারটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ছনবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে যাতায়াত করতে হয়। এই সড়কে যাতায়াতের সময় লোকজন ভয়ে থাকেন, কখন না জানি অ্যাক্সিডেন্ট হয়।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আলম নুর বলেন, এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় প্রায়ই গাড়ি উল্টে যায়। গাড়ির অনেক ক্ষতি হয়। সড়কের এমন অবস্থায় পায়ে হেঁটেও চলাচল কষ্টের। দ্রুত এ সড়কটি সংস্কার করা হলে এলাকার জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।

কোম্পানীগঞ্জ এলজিইডি অফিস জানায়, ভোলাগঞ্জ-শাহ আরেফিন-ছনবাড়ি সড়ক সংস্কারে প্রায় ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এই টাকায় আপাতত ২ দশমিক ১৬৭ মিটার (ভোলাগঞ্জ থেকে বাবুলনগর পর্যন্ত) সড়ক আরসিসি ঢালাই হবে। এমইএসই (জেভি) নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পান। গত ১৮ জুন কার্যাদেশ হয়। সড়কটি হলে ৮-১০টি গ্রামের লোকজন সহজেই যাতায়াত করতে পারবে। পাশর্^বর্তী ছাতক উপজেলার সঙ্গেও যোগাযোগে আসবে গতি।

প্রকল্পের ঠিকাদার শামিম আহমেদ বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী হজে যাওয়ায় কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়েছে। চলতি মাসেই আমরা প্রকল্পের কাজ শুরু করব।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আসিফ খান বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে আমরা তাগিদ দিয়ে যাচ্ছি। তারা দ্রুতই কাজ শুরু করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন।

শেয়ার