Bangla24.Net

বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , ৮ ফাল্গুন ১৪৩০

সিলেট-৫: চার দলই চায় সীমান্তবর্তী এ আসনটি

সিলেট-৫ আসন; সীমান্তবর্তী জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি, জামায়াতের দখলে ছিল।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে এ আসনে জামায়াতের মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, ওয়ান ইলেভেন পরবর্তীতে এ আসনে আওয়ামী লীগের হাফিজ আহমদ মজুমদার, এরপরে জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেন। নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে বিএনপি এখনও সিদ্ধান্ত না নিলেও দলীয় নেতাকর্মীরা এবার সংসদে সিলেট-৫ আসন থেকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব চাচ্ছেন।

তবে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি কিংবা জামায়াতও এ আসনে ছাড় দিতে নারাজ। তাই সংসদ নির্বাচনের ঢামাঢোল বাজার আগেই চারটি দলের সম্ভাব্য প্রার্থী কাজ করে যাচ্ছেন। পুরোনো প্রার্থীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নতুন প্রার্থীর নামও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফলে সিলেটের সবচেয়ে জমজমাট নির্বাচনের আশা জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটবাসীর।

এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা কৌশলে চালিয়ে যাচ্ছেন ভোটের রাজনীতি। দলীয় কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূলে কাজ করছেন তারা। এ ছাড়া নিজেদের অনুসারীদের দিয়ে দলীয় ফোরামেও প্রার্থিতার বিষয়টি কৌশলে উপস্থাপন করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ আসনে জামায়াতের ভোট ব্যাংক থাকলেও প্রকাশ্যে মাঠে নেই প্রার্থী। দলীয় ফোরামে প্রার্থিতার জানান দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা নেতাকর্মীদের। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী যেমন কাজ করছেন, তেমনি জাতীয় পার্টির প্রার্থীও তার মতো করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিলেট জেলার ৬টি আসনের মধ্যে প্রায় সবকটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে কাজ শুরু করেছে জামায়াত। অপরদিকে বিএনপি সিলেটের প্রত্যেকটি আসনে তাদের হেভিওয়েট প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে। পাশাপাশি এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বয়সজনিত কারণে নির্বাচনে যাচ্ছেন না এমন গুঞ্জনও ছড়িয়ে পড়ে জকিগঞ্জ কানাইঘাটে। আর জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কৌশলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিলেট-৫ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার বয়সে ভারাক্রান্ত হওয়ায় নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিগত নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে না চাইলেও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হন।

এ আসনে পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন হাফিজ মজুমদার। সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি থাকলেও জনগণের সঙ্গে তার দূরত্ব রয়েছে বলে খোদ দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ। এবারও গুঞ্জন রয়েছে সিলেট-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন তিনি। গত নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী ছিলেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এবার জাতীয় পার্টি মহাজোটে না থাকলে পাল্টে যাবে সব হিসাব-নিকাশ। তবে এবারও সিলেট-৫ আসন ধরে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মহাজোটের কারণে আসনটি ছাড় দিতে হয় আওয়ামী লীগকে। সেখানে এমপি হন জাতীয় পার্টির সেলিম উদ্দিন।

আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইতে পারেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সীমান্তিকের প্রধান পৃষ্ঠপোষক জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ড. আহমদ আল কবির, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সিলেট বিভাগীয় আইনজীবী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমদ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মস্তাক আহমদ পলাশ।

বিএনপির প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন (চাকসু মামুন) ও খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর চাচাতো ভাই কানাইঘাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী। অপরদিকে জামায়াতের সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর স্থলে সিলেট জেলা উত্তর জামায়াতের আমির আনোয়ার হোসেন খান দলীয় মনোনীত প্রার্থী হচ্ছেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুক। জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক এমপি সেলিম উদ্দিন জাতীয় পার্টিও সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক শাব্বীর আহমদ ও পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল মতিন চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিলেট-৫ আসনে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন জকিগঞ্জ, কানাইঘাটবাসীর সেবা করেছি। আমার সময়ে অবহেলিত এ দুই উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পার্টি আর জনগণ চাইলে এ আসনে নির্বাচন করব।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী দল। নেত্রী চাইলে নির্বাচন করব। এর আগে কখনো নেত্রীর সিদ্ধান্তের বাইরে যাইনি।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী (বর্তমানে অসুস্থ) গত সপ্তাহে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এই ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দল। আর গণতান্ত্রিক দলের নেতারা সবসময়ই নির্বাচনমুখী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একদফা বাস্তবায়ন হলেই আমরা নির্বাচনে যাব।

সৌজন্যে :  সময়ের আলো

শেয়ার