Bangla24.Net

শনিবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে কমছে নদ-নদী ও হাওরের পানি

ফাইল ছবি

সুনামগঞ্জে বুধবার (৫ জুলাই) রাত ও বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সকালে বৃষ্টি না হওয়ায় নদী ও হাওরে পানি আরও কমেছে। পাহাড়ি ঢলও নেমেছে কম। ফলে জেলার প্রধান নদী সুরমাসহ অন্য নদ-নদীর পানিও কমছে। তবে গ্রামের রাস্তায় পানি থাকায় ভোগান্তি হচ্ছে মানুষের।

বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৭ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটারে ছিল। গতকাল একই সময়ে সেখানে পানি ছিল ৭ দশমিক ৬৫ মিটার। দুই দিনে সুরমা নদীর পানি কমেছে ৩০ সেন্টিমিটার।

শান্তিগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, তার বাড়ির সামনের রাস্তায় এক সপ্তাহ ধরে পানি। চলাচল করতে বড় সমস্যা হচ্ছ। তবে পানি এখন কমছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টি হলেই সুনামগঞ্জে পানি বাড়ে। গত তিন দিন দুই জায়গাতেই বৃষ্টি হয়নি। বিশেষ করে মেঘালয়ে বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড়ি ঢল নামেনি। তাই সুনামগঞ্জের নদ-নদী ও হাওরে পানি কমছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে মানুষের মনে।

কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে সুনামগঞ্জ জেলা সদর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকের মধ্যে গত বছরের মতো ভয়াবহ বন্যা হবে কি না, এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে মানুষের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেনি। এখন পানি কমায় মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বৃহস্সপতিবার কালে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা আকরাম উদ্দিন বলেন, ‘পানি অনেকটাই কমেছে। টানা বৃষ্টিপাতের সঙ্গে যেভাবে পানি বাড়ছিল, তাতে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। শুধু আমি নই, সবার মনেই এই ভয় ছিল।’

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার। তিনি বলেন, বৃষ্টি হলে সেটা হবে হালকা কিংবা মাঝারি।

প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জে গত বছর জুনে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছিল। অতি বর্ষণের সঙ্গে ব্যাপকভাবে নেমেছিল উজানের ঢল। শহরে ঢলের পানি ঢোকে ১৬ জুন সকালে। সন্ধ্যা নামার আগেই পুরো শহর প্লাবিত হয়। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে পুরো সুনামগঞ্জ। বন্ধ হয়ে যায় ইন্টারনেট–সেবা। ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত মাথায় নিয়ে হাজারো মানুষ ছোটেন আশ্রয়ের খোঁজে। উঁচু ভবন, আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন মানুষ।

শেয়ার