Bangla24.Net

শনিবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পরিস্থিতি মোকাবেলায় কন্ট্রোল রুম

সিলেটের সুরমায় বাড়ছে পানি, বন্যার আশঙ্কা

ফাইল ছবি

গেল ক‘দিনের দিনের অব্যাহত পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির ফলে সিলেটের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি রয়েছে।

বিরামবিহীনভাবে বৃষ্টি হতে থাকলে দুই-একদিনের মধ্যেই এসব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এদিকে সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল, সিলেট জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তবে পাউবো বলছে, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পানি বৃদ্ধি পেলেও বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা নেই। আর সিলেট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস বলছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। রোববার (২ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে সোমবার (৩ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত সিলেটে ৩০৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮৬.১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পরবর্তী তিন দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

সোমবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় সুরমার নদীর সিলেট পয়েন্টের পানি রেকর্ড করা হয়েছে ১০.২১ সেন্টিমিটার। এ পয়েন্টের বিপৎসীমা ১০.৮০। আর সুরমার কানাঘাট পয়েন্টের পানি রেকর্ড করা হয়েছে ১১.৮৭ সেন্টিমিটার। এ পয়েন্টের বিপৎসীমা ১২.৭৫।

সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ জানান, কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের নদ-নদীর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সিলেটে গতকয়েক ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বৃষ্টি বন্ধ হলে নদীর পানি কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া ভারতের মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর ফলে সীমান্ত এলাকার নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। এ অবস্থায় সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বড় ধরনের বন্যার সম্ভাবনা কম।

সিলেট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। ৪১৯ মেট্রিক টন চাল, ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৪৬৬ বান্ডিল ঢেউটিন ও গৃহসংস্কার বাবদ ১৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মজুদ রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় চাল ও নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কন্ট্রোল রুম সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার